ইরান সংকট ও ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ উত্তেজনার জেরে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বা মূল্যস্ফীতি ফেব্রুয়ারিতে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের বাজার উত্তপ্ত হওয়ায় মার্কিন ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যার ধারাবাহিকতা মার্চেও বজায় থাকার পূর্বাভাস দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। খবর রয়টার্স।

মার্কিন শ্রম দপ্তর শিগগিরই ফেব্রুয়ারির ভোক্তা মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছে। রয়টার্সের এক জরিপে অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি দশমিক ২ শতাংশ বাড়লেও ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। বার্ষিক ভিত্তিতে হিসাব করলে ফেব্রুয়ারিতে সিপিআই বা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ২ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়েলস ফার্গোর সিনিয়র অর্থনীতিবিদ সারা হাউস এ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির সিপিআই রিপোর্ট সম্ভবত এটিই প্রমাণ করবে যে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা আবারো থমকে গেছে।’

তিনি আরো জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হলেও এর অনেক আগে থেকেই জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল, যা সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে টানা হ্রাসের পর গত মাসে গ্যাসোলিনের দাম প্রায় দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। মোটরিস্ট অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ‘এএএ’-এর তথ্যানুসারে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পাম্পগুলোয় জ্বালানি তেলের দাম ১৮ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি গ্যালন ৩ ডলার ৫৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানির এ আকস্মিক ঊর্ধ্বগতি সরাসরি হেডলাইন ইনফ্লেশনে প্রভাব ফেলছে, যা পরবর্তী সময়ে সার ও পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিয়ে খাদ্যদ্রব্যের দামকেও উসকে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির আরেকটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি। জাতীয় জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে ট্রাম্প যেসব ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দিলেও ব্যবসায়ীরা সেই বাড়তি খরচ ধাপে ধাপে পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিপরীতে ট্রাম্প পুনরায় ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছেন, যা ভবিষ্যতে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

আরও